শেখ আশরাফুল ইসলাম 21 July, 2025 08:35 PM
গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের আকাশে উড়েছে হাজার হাজার উড়োজাহাজ। যাত্রী ও মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে সামরিক প্রশিক্ষণ— বিভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত চলাচল করেছে অসংখ্য বিমান। কিন্তু মাঝে মধ্যেই কিছু দুর্ঘটনা আকাশযাত্রাকে রূপ দিয়েছে বিভীষিকায়। একাধিক প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে তৈরি করেছে এক গভীর ক্ষতচিহ্ন।
গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১৪টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে অন্তত ৬টি ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ, ২০১৮ সালের ১২ মার্চ ও আজ (২১ জুলাই) উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা।
স্বাধীনতার পর পরই ঘটে যায় বিভীষিকাময় বিমান দূর্ঘটনা :
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রথম বিমান দুর্ঘটনা হয় ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। সেদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট DC-3 বিধ্বস্ত হয়। এতে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর একটি। যেই ঘটনায় একটি Fokker F-27 উড়োজাহাজ ঢাকায় বিধ্বস্ত হয়ে ৪৯ জন নিহত হন।
বাণিজ্যিক ও সামরিক উভয় বিমানে বিপর্যয় :
বাংলাদেশে বিমান দুর্ঘটনা শুধু বেসামরিক বিমানেই নয়, ঘটেছে সামরিক প্রশিক্ষণ ও মালবাহী বিমানেও। ২০১৬ সালের ৯ মার্চ কক্সবাজারে ট্রু এভিয়েশন নামের একটি মালবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনজন নিহত হন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালের মার্চ। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়ে ৫১ জন যাত্রী প্রাণ হারান। যাদের বেশিরভাগই ছিল বাংলাদেশি নাগরিক।
সর্বশেষ উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত :
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরের সোয়া ১টার দিকে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা চব্বিশ মিনিট) ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত শাতধীক। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সোমবার (২১ জুলাই) বেলা পৌনে ৫টার দিকে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা পরিদর্শনের সম এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল।
দূর্ঘটনার কারণ :
বেশির ভাগ দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বৈরী আবহাওয়া, কারিগরি ত্রুটি, মানবিক ভুল, বিমানবন্দরের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা জটিলতা; এসবই দায়ী।
সূত্র : সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, ব্যুরো অব এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট আর্কাইভ