মূল পাতা শিক্ষাঙ্গন চবি ছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ
রহমত নিউজ 25 October, 2024 06:34 AM
শ্বাসকষ্টে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পরিসংখ্যান বিভাগের নাঈম নির্মা নামে এক ছাত্রী মারা গেছেন। অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের চিকিৎসকদের গাফিলতির।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ওই ছাত্রী।
নাঈম নির্মা পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট এলাকার একটি বাসার দুই তলায় থাকতেন ওই ছাত্রী। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বাসার অন্য দুজনের সহযোগিতায় নাঈমাকে চবি মেডিকেলে নেওয়া হয়।
পরে সেখান থেকে অক্সিজেন দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক সান্তনু মজুমদার। তবে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে এক নম্বর গেট এলাকায় গেলে সিলিন্ডারের অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। পরে হাটহাজারী থেকে একটি সিলিন্ডার কিনে পুনরায় চমেক হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন তারা। সেখানে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ করে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা চবি মেডিকেলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মেডিকেলের উন্নয়নে ১০ দফা দাবি পেশ করেন তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন, ওষুধ সরবরাহ ও অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা বৃদ্ধি, সাইকিয়াট্রিস্ট ও ফিজিওথেরাপিস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নাঈমা নির্মার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
চবি মেডিকেলের চিকিৎসক সান্তনু মজুমদার বলেন, যে দুজন ওই ছাত্রীকে নিয়ে এসেছিলো তারা বাসার মধ্যে অজ্ঞানই পেয়েছিলো। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ও কোনো রেসপন্স পাননি বলে জানিয়েছেন তারা। নিয়ে আসার পর করিডর থেকে চেক করে ভেতরে নিয়ে প্রেসারসহ সবকিছু চেক করে কোনো রেসপন্স পাইনি। তবুও মেডিকেলে চেক আপের জন্য পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ওই ছাত্রীর সঙ্গে যারা ছিলেন আমি ইনডিরেক্টলি তাদের বলেছি, ওনার আব্বা-আম্মাকে খবর দিতে। কারণ, ইসিজি বা নিশ্চিত না হয়ে সরাসরি কিছু বলা যায় না। আমরা তাকে ১০ লিটারের হাইফ্লো সিলিন্ডারটাই দিয়েছিলাম। এটা ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট চলার কথা।
চবি মেডিকেলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, প্রশাসন থেকে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। চিকিৎসকের যদি কোনো গাফিলতি থাকে, অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।