মূল পাতা বিশেষ প্রতিবেদন পর্তুগালে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বৈধভাবে ৬ বছর বসবাসের প্রস্তাব
শেখ আশরাফুল ইসলাম 29 August, 2025 01:04 PM
বৈধভাবে ছয় বছর বসবাস করে এবং নিজের মধ্যে পর্তুগিজ ভাষায় যথেষ্ট জ্ঞান ও দেশের নাগরিক নীতি সম্পর্কে ধারণা তৈরির মাধ্যমে অভিবাসিরা নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন বলে মতামত দিয়েছে একটি বুদ্ধিভিত্তিক সংগঠন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) “কনসেনসো ইমিগ্রাসাঁও” নামে বুদ্ধিভিত্তিক সংগঠনটি এই প্রস্তাবনা তুলে ধরে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইমিগ্রেশনের হাইকমিশনার এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে দেওয়া প্রস্তাবনায় বলা হয়, সমঝোতার ভিত্তিতে বৈধ বসবাসের সময়সীমা বর্তমান পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হোক। তারপর প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করা যাবে।
সরকারের প্রস্তাবিত আইন, যেটি সেপ্টেম্বরে সংসদে উত্থাপিত হবে; সেই মোতাবেক এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব আনা হয়েছে৷ পর্তুগালের নাগরিকত্ব পেতে যেটি সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত সোমবার সংগঠনের সদস্যরা এ বিষয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করেছিলেন। সেখান থেকেই লিখিত প্রস্তাবনা তৈরি হয়। সেমিনারে বক্তারা বলেন, যথাযথ কারণে নাগরিকত্ব প্রাপ্তি বসবাসরত দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আনে এবং দীর্ঘমেয়াদী সংহতি ও অন্তর্ভুক্তিতে বিনিয়োগে সহায়তা করে।
তারা বলেন, পর্তুগিজ নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই পর্তুগিজ সংবিধান, আইনের শাসন এবং দেশের সকল নিয়মশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
সমঝোতা
অভিবাসন বিষয়ে পর্তুগিজ সমাজে বিভক্তি রয়েছে উল্লেখ করে ইমিগ্রেশন কনসেনসাসের সদস্যরা বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক নীতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক এবং অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
তাদের মতে, নাগরিকত্ব পাওয়া যেন কখনোই শুধু শেনজেন দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখা না হয়, বরং এটি হওয়া উচিত অভিবাসীদের জাতীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
“তাই প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে, পর্তুগিজ ভাষায় যথেষ্ট জ্ঞান এবং সংবিধান থেকে উদ্ভূত নাগরিক ও সহাবস্থানের নীতিগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা একটি জোরদার শর্ত হওয়া উচিত।”
তাদের মতে, পর্তুগিজভাষী ও অ-পর্তুগিজভাষী ব্যক্তিদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা নির্ধারণ করার যেই প্রস্তাবটি সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি বৈষম্যমূলক।
তারা আরও বলেন, নাগরিকত্বের পাশাপাশি অভিবাসী নাগরিকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত, যারা নাগরিকত্ব চাইবেন না কিন্তু দেশে থাকতে চান।
ভাষা শিক্ষা
লিখিত ওই প্রস্তাবনায় স্বাক্ষরকারীরা রেজিস্ট্রিজ অ্যান্ড নোটারিজ ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী করার পক্ষে আবেদন জানান। সেই সাথে অ-পর্তুগিজভাষী অভিবাসীদের জন্য পর্তুগিজ ভাষা শিক্ষার নিশ্চয়তা; আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং সার্টিফিকেশন জোরদার করারও আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের জন্য একটি জাতীয় পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেখানে তারা পর্তুগিজ সংবিধান থেকে উদ্ভূত নাগরিক ও সহাবস্থানের নীতিগুলো সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করবেন। উদাহরণ দেওয়া হয়, স্পেন ও ব্রিটেনের “লাইফ ইন ইউকে টেস্ট”।
তারা আরও আহ্বান জানান, রাষ্ট্র যেন বিভ্রান্তি প্রতিরোধে স্বচ্ছতা বজায় রাখে এবং প্রতিবছর নাগরিকত্ব প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে একটি “জাতীয় প্রতিবেদন” প্রকাশ করে। যেখানে অ্যাক্সেস পদ্ধতি, সামাজিক-জনসংখ্যাগত প্রোফাইল এবং সেবার সময়সীমা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সরকারের প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়ার দশ বছরের মধ্যে যদি কেউ অপরাধ করে তবে অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। কিন্তু বুদ্ধিভিত্তিক ওই সংগঠনের সদস্যদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের ওপর নজর রাখা উচিত সাংবিধানিক আদালতের।
তাদের মতে, নাগরিকত্ব পাওয়া এমন একটি বিষয় যা পর্তুগিজ সমাজে ব্যাপক ঐকমত্যের দাবি রাখে। তাছাড়া এটিকে কখনোই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে দেওয়া যাবে না। এটি হলে সমাজে মেরুকরণ ও বিভাজন বাড়বে।
গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে গঠিত এ সংগনে আছেন চারজন সাবেক হাই কমিশনার, সাবেক রাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারিনা মার্সেলিনো, গবেষক লুসিন্ডা ফনসেকা ও কাতারিনা রেইস অলিভেইরা, এবং সংগঠন নেতা ইউজেনিয়া কোয়ারেসমা (পর্তুগিজ ক্যাথলিক অ্যাসোসিয়েশন অব মাইগ্রেশনসের পরিচালক) ও পাওলো মেন্ডেস (অ্যাসোসিয়েশন অব ইমিগ্রান্টস অব দ্য আজোরেসের সভাপতি)।
সূত্র : দ্য পর্তুগাল নিউজ