রহমত নিউজ 24 August, 2025 01:34 PM
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক বলেছেন, অবশ্যই নারীদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের যত্নবান হতে হবে। এটাই ইসলামের শিক্ষা। আমাদের সমাজে এখন অধিকারের আলোচনা হয় একপাক্ষিক। এর ফলে অধিকার প্রদানের যে ভারসাম্য তা রক্ষা হয় না। এটা কাম্য নয়। ইসলামের শিক্ষা হলো, সকল পক্ষকেই তাদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। কেবল শ্রমিক নয়, মালিকও অধিকার পাবে। কেবল নারী নয়, পুরুষও তার অধিকার পাবে। সকল পক্ষ ও ব্যক্তিকেই তার অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সচেতনতার জন্য গঠিত সংগঠন “ইনসাফ ফাউন্ডেশন”-এর আত্মপ্রকাশমূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনটিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ইনসাফ একটি শতভাগ ইসলামী সংস্থা। তাই অমুসলিমরাও তাদের শতভাগ অধিকার এখান থেকে বুঝে পাবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইনসাফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার পরিচালক মুফতি মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, কেবল ওলামায়ে কেরাম নন, সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গকে নিয়েই আমরা নারীদের অধিকার মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, গণমানুষকে সচেতন করতে চাই। ইনসাফ-এর পরিচিতিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট লেখক, সিনিয়র মুহাদ্দিস ও খতীব মাওলানা আব্দুল গাফফার।
তিনি আরও বলেন, নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সচেতনতার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়েছে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যা যা করা দরকার এই সংস্থার মাধ্যমে তা করতে আমরা সচেষ্ট থাকব।
“নারীর অধিকার ও মর্যাদা: বাস্তবতা ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন ইনসাফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শাইখুল হাদীস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম।
প্রবন্ধে তিনি বলেন, আজকের সমাজে বাবা কর্তৃক মেয়েকে আর্থিকভাবে বঞ্চিত করার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। যেই মা নিজ উদরে বহন করেছেন, বুকের অমৃত পান করিয়ে নির্ঘুম প্রতিপালন করেছেন, তিনিও পর্যন্ত সম্পত্তির বেলায় অনেকক্ষেত্রে পুত্রঘেষা। আর বোনের ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার বেলায় তার প্রিয় সহোদরদের আমরা কেমন জায়গায় দেখছি? অনেক ক্ষেত্রে ঘটছে শারীরিক সহিংসতা। আজ এটা এক লোমহর্ষক বাস্তবতা! এ অবস্থা থেকে বের হতে হবে, সমাজকে বের করতে হবে। নারীর অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে এবং দাম্পত্য জীবনের সৌহার্দ্য ও সৌন্দর্যের যে শিক্ষা ইসলাম দিয়েছে, এগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে।
সেমিনারে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ড. এবিএম হিজবুল্লাহ বলেন, বিবাহকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। তালাক ও পরকীয়ার মতো বিষয়গুলোতে গণসচেতনতা তৈরিও ইনসাফের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। বিয়ের পূর্বে পাত্র-পাত্রী উভয়ের জন্য সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ করানো উচিত।
অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, নারীবাদ সূক্ষ্ম গোলক ধাঁধা তৈরি করে পুরুষের বিপক্ষে নারীকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর ফলে যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে দিয়ে নারীর প্রতি জুলুমের ক্ষেত্রই সম্প্রসারিত হয়েছে। নারীবাদের নামে পশ্চিমা ব্যবস্থা আসার পরে পৃথিবীতে সর্বোচ্চ পরিমাণ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এত নারী-নির্যাতন কখনোই ঘটেনি।
এডিডিআই আইজিপি নাজিবুর রহমান (অব.) বলেন, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতে পারবে পুলিশ প্রশাসন। তাই পুলিশ, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত সবাইকে এই কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি। বুয়েট-এর সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. লুতফুল কবীর বলেন, শুধু সচেতনতামূলক কার্যক্রম নয়, বিবাদপূর্ণ দম্পতিগুলোর মাঝে বিপদ ঘটে যাওয়ার আগে চলমান ঘটনাগুলোকেও গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত। উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে দম্পতিদের সাথে সেশন করা, তাদের কাউন্সিলিং করাকে গুরুত্বের সাথে ইনসাফের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন, মাকতাবাতুল আশরাফের সত্ত্বাধিকারী মাওলানা হাবিবুর রহমান খান ও বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও নিউইয়র্ক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমাদুল হক প্রমুখ। সেমিনার শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন বর্ষিয়ান আলেমেদীন হাফেজ মাওলানা ইয়াহইয়া জাহাঙ্গীর।