| |
               

মূল পাতা বিশেষ প্রতিবেদন তালেবানের শাসনে ইমারাতে ইসলামিয়ার চার বছর; যা কিছু সাফল্য


তালেবানের শাসনে ইমারাতে ইসলামিয়ার চার বছর; যা কিছু সাফল্য


শেখ আশরাফুল ইসলাম     16 August, 2025     01:15 PM    


তালেবানের সশস্ত্র লড়াইয়ে চার বছর আগে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় মার্কিন বাহিনী। সেই সাথে ভেঙে পড়ে মার্কিন মদদপুষ্ট আশরাফ ঘানি সরকারের অবৈধ শাসনামল। স্বাধীনতা ফিরে পায় আফগানিরা। শুরু হয় ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের নতুন যাত্রা।

গত চার বছনে তালেবানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা আরও দৃঢ় হয়েছে। এমনকি জার্মানিসহ কিছু সরকার কাবুলের সরকারে সাথে কার্যত সম্পর্ক স্থাপন করছে। রাশিয়া গত জুলাই মাসে প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানকে স্বীকৃতি দেয়।

চীনও তালেবান শাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী তালেবান রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।

দুর্নীতি দমন ও রাজস্ব বৃদ্ধি

ইসলামী আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ও রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি করেছে আফগানিস্তান। সীমান্ত ও কাস্টমস থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় খাতে ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

আফগান সরকারের  অর্থনৈতিক উন্নতি

তালেবানের নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার কৃষি ও খনিজ সম্পদ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিসমিস, আঙ্গুর, জাফরানসহ কৃষিজ পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা চালু হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশটিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করছে। চীন, ইরান, রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি। লিথিয়াম, তামা ও কয়লার মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলনে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। এসব উদ্যোগ আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে স্বনির্ভরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আফগান সরকারের  নিরাপত্তা ও মাদক দমন

মাদক উৎপাদন ও পাচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আফগান সরকার। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলে অপরাধপ্রবণতা ও অপহরণের ঘটনা একেবারেই কমেছে। দেশের জনগণ নিরাপদবোধ করছে এবং দেশটির সরকারের প্রতি আস্থাকে সুদৃঢ় করেছে।

প্রধান শহরগুলোতে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা একেবারে নাই বলেই দাবি করেছে সেখানকার সাধারণ মানুষ।

আফগান সরকারের সামাজিক উদ্যোগ

সামাজিক খাতে তালেবান সরকার বেশকিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেছে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তবে এখনো দেশটিতে খাদ্যঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধে সেখানে কিছু মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি চারজনের মধ্যে একজন আফগান খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে।

গত মাসে আমেরিকা ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেওয়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে, যার ফলে ৩০ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না এবং ৪২০টি ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে।