রহমত নিউজ 14 July, 2025 12:22 PM
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্বে অংশ নেওয়া হাজিদের মধ্যে বাড়িভাড়া খরচ কম হওয়ায় বেঁচে যাওয়া অর্থ ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ হাজার হাজি।
তিনি জানান, সরকারি মাধ্যমের ৪ হাজার ৯৭৮ হাজিকে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
রোববার (১৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫ সালের হজ্ব ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
হজ্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যবসায়িক কোনো উদ্দেশ্য নেই উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, হাজিদের সেবা করাই সরকারের একমাত্র ব্রত। এ বছর হজ্ব প্যাকেজে বাড়ি ভাড়ার জন্য যে পরিমাণ টাকা ধার্য করা হয়েছিল, তারচেয়ে কিছু কম রেটে বাড়িভাড়া পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম রেটে সার্ভিস চার্জও মিলেছে। এর ফলে প্যাকেজের কিছু টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি মাধ্যমের প্রত্যেক হাজিকে ফেরত দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে জানান, সাধারণ হজ্ব প্যাকেজ-১-এর যেসব পূর্ণ প্যাকেজের হাজি চার ও ছয় নম্বর বাড়িতে ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকে ৫ হাজার ৩১৫ টাকা ফেরত পাবেন। চার নম্বর বাড়ির শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ২৩ হাজার ২৭ টাকা ফেরত পাবেন। এই প্যাকেজের ০৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ১৩ হাজার ৫৭০ টাকা ফেরত পাবেন। পাঁচ ও ছয় নম্বর বাড়িতে শর্ট প্যাকেজের কোনো হাজি রাখা ছিল না।
উপদেষ্টা আরও জানান, সাধারণ হজ্ব প্যাকেজ-২-এর পূর্ণ প্যাকেজের যেসব হাজি এক নম্বর বাড়িতে ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকে ১৯ হাজার ১৯২ টাকা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৫১ হাজার ৬৯২ টাকা ফেরত পাবেন। দুই নম্বর বাড়িতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ২১ হাজার ১৪২ টাকা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৫৩ হাজার ৬৪২ টাকা ফেরত পাবেন। তিন নম্বর বাড়িতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ২৪ হাজার ২৬২ টাকা ফেরত পাবেন। এ বাড়িতে শর্ট প্যাকেজের কোনো হাজি ছিলেন না। এই টাকা হাজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হবে।
এ বছরের হজ্ব ব্যবস্থাপনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক অভিহিত করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এ বছর হজ্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের গাইডলাইন অনুসারে আমরা সব প্রক্রিয়া যথাসময়ে সম্পন্ন করেছি। হজ্বযাত্রী নিবন্ধন, হজ্বের আবশ্যিক ব্যয়ের টাকা আইবিএনের মাধ্যমে সৌদিতে পাঠানো, নুসুক মাসার নামক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মিনা-আরাফায় তাঁবু বরাদ্দ নেওয়া, বাড়িভাড়া ও সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি, পরিবহন চুক্তি ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এ ছাড়া হজ ফ্লাইট শিডিউল পর্যালোচনা সাপেক্ষে হজ্বযাত্রী পুনর্বণ্টনের প্রক্রিয়া যথাসময়ে সম্পন্ন করা হয়।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, হজ্ব ব্যবস্থাপনার সব বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ছিল প্রো-অ্যাকটিভ। কোনো সংকট তৈরি হওয়ার পূর্বেই আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সব স্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা একটি টিম স্পিরিট নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এর ফলে এ বছর হজ্বে যেতে না পারার বেদনায় কাউকে কাঁদতে হয়নি। কোনো হজ ফ্লাইট বিপর্যয় হয়নি। হজ্বযাত্রীদের মধ্যে কোনোরূপ হট্টগোল, হইচই, শোরগোল দেখা যায়নি। বাংলাদেশের নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী হজ্ব পালন করতে পেরেছেন।
দেশবাসীকে প্রতারক থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ড. খালিদ বলেন, হাজিদের রিফান্ড কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান বা দুস্থদের আর্থিক সহায়তাসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সব ধরনের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরূপ টাকা পাঠাতে মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে ফোন করা কিংবা তাঁর কাছ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর কিংবা বিকাশ বা নগদ কিংবা রকেটের কোনো পিন নম্বর চাওয়া হয় না। এমনটি যদি কেউ করে, তাহলে সে প্রতারক।
ড. খালিদ আরও বলেন, এ বছর হজ্বযাত্রী হারানো সংখ্যা কমেছে। এবার ৮৯২ জন হজ্বযাত্রী হারানো গিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ৮৯১ জনকেই খুঁজে পাওয়া গেছে। এ মৌসুমে যে ৪৫ জন হজ্বযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের সবারই নানা ধরনের জটিল রোগব্যাধিতে আক্রান্তের পূর্ব ইতিহাস ছিল।
তিনি হজ্ব ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিমান, বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাউদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস, হাবের সভাপতি ও মহাসচিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় ধর্মসচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম, হজ্ব অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।