| |
               

মূল পাতা জাতীয় নির্বাচনের আগেই শাপলা ও জুলাই গণহত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে : হেফাজত


নির্বাচনের আগেই শাপলা ও জুলাই গণহত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে : হেফাজত


রহমত নিউজ     26 June, 2025     11:59 AM    


নির্বাচনের আগেই শাপলা চত্বর ও জুলাই গণহত্যাকাণ্ডসহ প্রতিটি হত্যার বিচার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ইসলামবিদ্বেষ, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা সংরক্ষণ, রাষ্ট্র-সংস্কারের গণ-আকাঙ্ক্ষা সুসংহতকরণ এবং জাতীয় ঐকমত্য গঠন করতে অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে। সেইসাথে নির্বাচনের আগেই শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামা ও জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার সম্পন্ন করতে হবে। এর অন্যথা হলে ড. ইউনূস সরকারকে ছাত্র-জনতা ক্ষমা করবে না। অন্তর্বর্তী সরকারকে বুঝতে হবে, এখনো বিছানায় কাঁতরাচ্ছে পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করা হাজার হাজার আহত শাপলা ও জুলাই-যোদ্ধা। অগণিত শহীদের রক্তের ফসল জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হলে গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার কাছে অধ্যাপক ইউনূসের সরকারকে জবাব দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত ইতিহাসের পথ বেয়ে জুলাই বিপ্লব আমাদের জাতীয় জীবনে হাজির হয়েছে। জুলাই বিপ্লব চলমান প্রক্রিয়া। জুলাইকে বিস্মৃত হতে দেয়া যাবে না। জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি করে জনসমর্থন ধরে রাখা যাবে না। এদেশে যারাই ভারতীয় আধিপত্যবাদের গোলামি করবে, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিবে, মাফিয়াতন্ত্র জারি রাখবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাইর গণপ্রতিরোধের চেতনা বারবার ফিরে আসবে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বিলম্ব করবে না। মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ফেরাউন পারেনি; হাসিনাও পারেনি। ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীনদের এই ঐতিহাসিক শিক্ষা ধারণ করতে হবে।

মাওলানা ইসলামাবাদী আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম দাবি কাঠামোগত সংস্কার। ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার জন্ম দেয়া বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর বিলোপ ও পুনর্নির্মাণের মধ্যেই বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যত পরিদৃষ্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এনে দিয়েছে। গণহত্যার বিচার ও সংস্কার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র-সংস্কারের মৌলিক কাজগুলো আরো বেগবান করতে হবে। ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থের চেয়ে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় আত্মনিবেদিত হওয়ার মধ্যেই মাহাত্ম্য নিহিত। আর সংস্কারকাজে অবশ্যই ইসলামবিরোধী অপশক্তির ফাঁদ ও কুমন্ত্রণা এড়িয়ে যেতে হবে। সংবিধানের মূলনীতি থেকে বহুত্ববাদ বাদ দিতে হবে। কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারী কমিশন বাতিল করতে হবে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের আলোকে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে
হবে।